বিপুল মিয়া,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শুধু ফুলবাড়ী হাসপাতালে ৪০/৫০ জন শিশু বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তেমনি একজন শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে দাদুর সঙ্গে। বয়স সর্বমোট ১৫ মাস (পনেরো) হয়েছে। তার গায়ে দাগ দাগ চিহ্ন। ফুটফুটে শিশু। শুধু তাকিয়েই আছে। কিছুই বলতে পারছে না। দাদু আব্দুর রহমান ভাবছেন না জানি তার নাতনির কত বড় রোগ হয়েছে। এভাবেই অনেকে দাঁড়িয়ে আছে চিকিৎসকের রুমের সামনে। চিকিৎসকের পাশেই বসে শিশুদের ওজন মাপছেন নার্স। বেশ ভিড়। অনেকে চেষ্টা করছেন তার শিশুকে আগেই যেন চিকিৎসক দেখেন। অনেকের আবার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। না জানি তার শিশু সন্তান বড় ধরনের অসুখে ভুগছে।
তবে চিকিৎসক মনোযোগ সহকারে প্রতিটি শিশুকেই দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। সেখানে দেখা গেল অনেক শিশু কাশি ও হাঁচি দিচ্ছে। অনেকের গায়ে বেশ জ্বর। আবার অনেকের গায়ে ফোসকার মতো হয়েছে। দাগ দাগ চিহ্ন। সরেজমিনে এমনটি দেখা গেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে। গত ৭ দিনে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩’শ শিশু কে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শিশু কে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
নাতনির চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুর রহমান জানান, তার নাতনির গায়ে ফোসকার মতো হয়েছে। মাঝে মাঝে জ্বরও আসে। অনেকদিন থেকে ভুগছে। এজন্য হাসপাতালে এসেছি। চিকিৎসাপত্র নিলাম। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার রতন আহমেদ জানান, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য আইএমসিআই কর্নার খোলা রয়েছে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, শিশুদের আবহাওয়া জনিত কারণে সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ ডায়রিয়া হচ্ছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। আমরা সব সময় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।


