ঢাকাশনিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. আনন্দধারা
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প ও কবিতা
  9. গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব লিংক
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাকুরী বার্তা
  12. জনমত
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. পরিবেশ ও বিজ্ঞান

এলাকাবাসীর দাবি পূরণ, নির্মিত হচ্ছে মাইন বিস্ফোরনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ

প্রতিবেদক
বুলেটিন বার্তা
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতনিধি ॥ ১৯৭২ সালের ৬ই জানুয়ারী দিনাজপুর মহারাজা স্কুলে মাইন বিস্ফোরনে শহীদ হয়েছিলেন ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, যাদের মধ্যে পঙ্গুত্ববরণ করেন অনেকেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একসাথে এতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদের ঘটনা আর একটিও নেই। অথচ দীর্ঘদিনেও এসব শহীদের ইতিহাস ধরে রাখতে ছিল না পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ।

দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ইতিহাস ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে স্মৃতি বিজরিত ঐতিহাসিক স্থানটিতে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার। অবশেষে ঘটনার ৫০ বছর পরে ওই স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে।

দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুতুব আল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার ওই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করতে ২ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ফলে দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে।
দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত মহারাজা গিরিজানাথ মাঠ প্রাঙ্গণের পশ্চিম প্রান্তে একটি মনোরম শৈলি, ভাবগাম্ভির্য্যপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের লক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান। তারই ধারাবাহিকতায় স্থাপত্য নকশা ও প্রেরিত কাঠামোগত নকশার আলোকে মাটিকাটা, আরসিসি, ইটের গাথুনি, সিসি ঢালাই, বালুভরাট, প্লাষ্টার মার্বেল স্টোন ও গ্রানাইট, ১২ মি.মি. পুরুত্বের ক্লিয়ার গ্লাস, গেইট ও রাস্তার জন্য ইউনি ব্লকসহ প্রয়োজনীয় রং আরবরিকালচারের কিছু দফা সমন্বয়ে এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস ফিক্সার লাইট ক্যাবল ইত্যাদির সমন্বয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। বৃহস্পতিবার ওই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করার জন্য অর্থ অনুমোদিত হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, এই স্মৃতিস্তম্ভের (ছবি দেখার মত করে) বামপাশের্^ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সম্বলিত ৩টি স্মৃতিস্তম্ভ, ব্লাক গ্রানাইটের মেঝে তার পাশের্^ বাণী এবং সর্বডানে থাকবে মাইন বিস্ফোরন ট্রাজেডির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। স্মৃতিস্তম্ভে এমনভাবে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে যাতে করে রাতের বেলাতেও দুর থেকেই পরিস্কার দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া রাস্তার ধারের দিকে থাকবে মোটা গ্লাস যাতে করে কোন পথচারী বাহির থেকেই স্মৃতিস্তম্ভটি সম্পূর্ণ দর্শন করতে পারে। এই স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেয়ার জন্য বেদীতে থাকবে অনেকগুলো স্তম্ভ, যাতে করে মনে হয় যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনারা এখনও দন্ডায়মান রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  হাবিপ্রবি'র আবাসিক হল খুলবে ১৮ অক্টোবর

দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুতুব আল হোসাইন বলেন, সরকারী বিধিবিধান মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আমরা আশা করছি মার্চের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহেই কাজ শুরু করতে পারবো এবং জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাস। দীর্ঘ ৯ মাস জীবনের বাজি রেখে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা লাল সবুজের একটি পতাকা ও একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র জাতিকে উপহার দিয়ে বাড়ীতে ফিরে গিয়ে পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দ উৎসব করার কথা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও পাক সেনাদের পুতে রেখে যাওয়া মাইনের কারণে এদেশের ভূমি এখনও দেশবাসীর জন্য স্বাধীন নয় মনে করে মুক্তিযোদ্ধারা নিয়োজিত হয় ভুমিতে পুতে রাখা মাইন অপসারনের কাজে। এজন্য দিনাজপুর শহরের মহারাজা স্কুলে স্থাপন করা হয়েছিলো মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্প। দেশ মাতৃকাকে সুরক্ষিত রাখতে এ ক্যাম্পে এসে সমবেতন হন দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোর প্রায় ৮ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হামজাপুর, তরঙ্গপুর, পতিরাম ও বাঙ্গালবাড়ী ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশে শত্রুদের পুঁতে রাখা মাইনমুক্ত করতে সমবেত মুক্তিযোদ্ধারা কাজ করছিলেন। ক্যাম্প থেকে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বেরিয়ে পড়তেন পাক সেনাদের ফেলে যাওয়া, লুকিয়ে রাখা ও পুতে রাখা মাইন ও অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদের সন্ধানে। সন্ধ্যার দিকে উদ্ধারকৃত মাইন ও অস্ত্রাদি জমা করা হতো মহারাজা স্কুলের দক্ষিণাংশে খনন করা বাংকারে।

১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারী সন্ধ্যায় এ রুটিন ওয়ার্কের এক পর্যায়ে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। উদ্ধারকৃত অস্ত্র বাংকারে নামানোর সময় অসতর্ক মুহূর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে একটি মাইন পড়ে যায়। এতে করে মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বাংকারের পুরো অস্ত্রভান্ডার বিস্ফোরিত হয়। ভয়াবহ ও বিকট বিস্ফোরণে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয় মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গনসহ এর আশ-পাশের এলাকায়। এতে পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এবং বহু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।

আরও পড়ুনঃ  প্রয়াত কর্মচারী মঞ্জরুলের স্ত্রীর হাতে হাবিপ্রবি উপাচার্যের চেক হস্তান্তর

সেদিন সকালের রোলকলে উপস্থিত ছিলেন ৭৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা। দুর্ঘটনার পূর্বে ৫০ থেকে ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা ছুটি নিয়ে ক্যাম্প ত্যাগ করেছিলেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাড়ে ৪শ মুক্তিযোদ্ধা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অনেক মুক্তিযোদ্ধার হাত-পা, মাথা অনেক দূরে ছিটকে যায়। দুর্ঘটনার পর পরই শতাধিক আহত মুক্তিযোদ্ধাকে ভর্তি করা হয়েছিল দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল ও সেন্ট ভিসেন্ট মিশন হাসপাতালে। এদের মধ্যে থেকে পরে ২৯ জন মারা যায়। যুদ্ধের পরবর্তীকালীন সময়ে ছিল পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের অভাব। যাতে করে ঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে আহত অনেকেই ভারতের কলিকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এই দূর্ঘটনার পরের দিন শহরের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শরীরের অংশ জড়ো করে দিনাজপুর গোরা শহীদ ময়দানে শহীদদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামরিক মর্যাদায় ১২৫ জন শহীদের লাশ দাফন করা হয় ঐতিহাসিক চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণে। পরবর্তী সময়ে চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণে আরো দাফন করা হয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা লাশ। নিহতদের মধ্যে সে সময় ৫৮ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। পরে পর্যায়ক্রমে পাওয়া যায় আরো ৬৪ শহীদদের নাম ও পরিচয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুরের এক জনসভায় ৬ জানুয়ারী মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রাজেডিস্থলে শহীদদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে এই স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি।

কথা হলে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থায়নে দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হলে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত হবে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।

সর্বশেষ - জাতীয়

নির্বাচিত সংবাদ

হাবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের শুভেচ্ছা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

হাবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রায়োগিক গবেষণা বিষয়ক সেমিনার

এটিএন বাংলা-‘উন্নয়নে বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ নির্বাচিত হলেন অধ্যাপক তোফাজ্জল

যশোর বেনাপোল

যশোরের বেংদা সীমান্তে ১০৬ পিচ সোনারবারসহ পাচারকারী আটক

ইউজিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফেলোশিপ অর্জনে অধ্যাপক আফজাল হোসেনকে  হাবিপ্রবি উপাচার্যের অভিনন্দন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্ট্রাটেজিক প্লান বাস্তবায়নের তাগিদ ইউজিসি’র

ফুলবাড়ীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও মাস্ক বিতরণ

১১ জন অস্বচ্ছল ক্রীড়াসেবীকে বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু