ঢাকাশুক্রবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. আনন্দধারা
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প ও কবিতা
  9. গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব লিংক
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাকুরী বার্তা
  12. জনমত
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. পরিবেশ ও বিজ্ঞান

চরআত্রায় নিরাপদ পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের স্কোয়াশ চাষের ওপর মাঠ দিবস

প্রতিবেদক
বুলেটিন বার্তা
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রায় নিরাপদ পদ্ধতিতে সাধারণ ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয়বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের সবজি স্কোয়াশ উৎপাদন প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় শরীয়তপুর ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এর আয়োজনে স্কোয়াশ চাষী সেলিম মালতির বাড়ির আঙিনায় এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।এতে কৃষির সাথে জড়িত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাসহ ৭০ জনেরও বেশি কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

এসডিএস এর সহকারী ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর সুব্রত মুজমদারের সঞ্চালনায় ও কৃষক সিরাজুল ইসলাম খাঁ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিএস এর ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর কৃষিবিদ শরীফুল আলম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ভিসিএফ কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল মান্নান, এসডিএস’র মাইক্রো ফাইন্যাস চরআত্রা শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এভিসিএফ ফরহাদ হোসেন, আসাদুজামান রানা সহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন,নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে হলে আমাদের নিরাপদ খাবার খেতে হবে। আর এজন্য নিরাপদ পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষাবাদের বিকল্প নেই। নিরাপদ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে একদিকে যেমন উৎপাদনে খরচ কম লাগে অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চারপাশের পরিবেশ ভালো থাকে। অধিক ফলনের আশায় জমিতে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে উৎপাদন খরচ বাড়ার সাথে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। যা পরে এক সময় গিয়ে জমির উৎপাদন ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তাছাড়া কীটনাশকের মাধ্যমে উৎপাদিত সবজি খেলে তা আমাদের মানবদেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে ক্যান্সারসহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি করে।

মাঠ দিবস

 

বক্তারা আরও বলেন, স্কোয়াশ অল্প সময়ে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ কুমড়া লাগানো যায়, তার চেয়ে দ্বিগুণ স্কোয়াশ লাগানো সম্ভব। পূর্ণবয়স্ক একটি স্কোয়াশ গাছ অল্প জায়গা দখল করে। স্কোয়াশের একেকটি গাছের গোড়ায় ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত ফল বের হয়। স্কোয়াশ সবজি হিসেবে খুবই ভালো এবং ফলনও খুব ভালো হয়। অল্প জায়গায় ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভজনক একটি সবজি। স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি।

আরও পড়ুনঃ  বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় বহ্নিশিখার মানববন্ধন

স্কোয়াশ চাষী সেলিম মালত বলেন, আধুনিক এবং লাভজনক কৃষিতে প্রবর্তন করার জন্য স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হই। এসডিএস এর নিরাপদ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন প্রকল্প হাতে নিয়ে ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ রোপণ করি। এই সবজির ফলন অনেক ভালো হয়। বীজ বপনের ৪৫ থেকে ৫০ দিনেই বাজারজাত করা যায়। প্রায় এক ফুট লম্বা একেকটি স্কোয়াশ দুই থেকে তিন কেজি ওজনের হয়। প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন প্রায় এক কেজি হতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করি। বর্তমান বাজারে স্কোয়াশ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক মালচিং পদ্ধতি চাষাবাদ করায় পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। ফলে খুব খরচে অনেক বেশি লাভ হয়। এলাকায় এই সবজি নতুন হওয়ায় অনেকেই দেখতে আসছেন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা আছে আমার।

এম আব্দুল মান্নান/বার্তাবুলেটিন/চরআত্রা

সর্বশেষ - জাতীয়