ঢাকাশুক্রবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. আনন্দধারা
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প ও কবিতা
  9. গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব লিংক
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাকুরী বার্তা
  12. জনমত
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. পরিবেশ ও বিজ্ঞান

মাথাপিছু আয়সহ সামাজিক অনেক সূচকে ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ: প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদক
বুলেটিন বার্তা
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম বলেন, মাথাপিছু আয়সহ সামাজিক অনেক সূচকে ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় জুমবাংলা আয়োজিত ফেসবুক লাইভ আলাপনের ১৩০তম পর্বে ‘নয়া জাতীয় পরিকল্পনা ও আমাদের অর্জন ‘ শীর্ষক লাইভে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম জাহান।  অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো: আব্দুল মান্নান।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ পরিচালক সাজেদ ফাতেমী এর সঞ্চালনায় ‘নয়া জাতীয় পরিকল্পনা কেন বলা হচ্ছে তার ব্যাখ্যায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) সালে প্রণীত হয়। দ্বিতীয়-তৃতীয় (১৯৮০-এর দশক) ও চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯০ দশকের প্রথমার্ধ) প্রণীত হয়েছে। যদিও পরিকল্পনাগুলোর তেমন কোনো আদর্শিক ভিত্তি ছিল না। ১৯৯১-৯৫ এ পাঁচশালা একটা পরিকল্পনা হয় যেটি প্রকাশিত হয় সরকারের বিদায়ী বছরে। এরপর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হন। তখন একটি পাঁচসালা পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেটি এর আগেও ছিলো। পাচ সালা পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয় জিইডিকে। এরপর ১৯৯৭-০২ পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা খুব দ্রুত প্রণীত হয়। ২০০২ থেকে ২০০৯-১০ বাংলাদেশে কোনো পাঁচসালা পরিকল্পনাই ছিল না। প্রায় দশ বছর বাংলাদেশ পরিকল্পনাবিহীন (plan holiday) কাটিয়েছে বিশ্বব্যাংক প্রণোদিত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র নিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০০৮-এর ডিসেম্বর অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।এরপর শুরু হয় ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিলো ২০১১-২০১৫, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিলো ২০১৬-২০২০ এবং এখন বর্তমানে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০২১-২০২৫ শুরু হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) ছিল ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (২০১০-২১) অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের শেষ পাঁচসালা পরিকল্পনা। অত্যন্ত অংশগ্রহণমূলকভাবে এ পরিকল্পনাও গৃহীত হয়। এটাকে কেন নয়া জাতীয় পরিকল্পনা বলা হচ্ছে তার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ১ম-৫ম পর্যন্ত আমাদের যে সমস্ত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিলো সেগুলো ছিলো বিনিয়োগ পরিকল্পনা। অন্যদিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো এমডিজি ও এসডিজি অর্জনের কর্মপত্র হিসেবেও তৈরি করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাজেটে বর্ণিত খাত বিন্যাস অনুসারে প্রথমবারের মতো খাত বিন্যাস করা হয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দুটোর মধ্যবর্তী মূল্যায়ন যথাসময়ে সম্পন্ন হয় এবং প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) একই ধারাবাহিকতায় কৌশলগত পরিকল্পনা হিসেবেই প্রণীত হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১: রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রূপায়ণ’-এর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এ কারনেই এটাকে বলা হচ্ছে নয়া জাতীয় পরিকল্পনা।
পরিকল্পনার ধীরগতি বাস্তবায়ন কি আমাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায় নয়? যারা এই প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েও সঠিক সময়ে কাজ করেনা তাদের ব্যাপারে আসলে আমাদের সিদ্ধান্ত কি? শুধু কি দৃশ্যমান উন্নয়নই আমাদের একমাত্র উন্নয়ন এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,এটা মানুষের দৈনন্দিন ঘটনাবলী থেকে দৈনন্দিন কাজের প্রতিক্রিয়া। আমাদের পরিকল্পনা দৈনন্দিন কার্যবিবরণীর কোনো বিষয় নয়। অর্থনীতি এমন একটি বিষয় আপনারা দেখে থাকবেন যে সকালে একটি পণ্যের দাম এক রকম থাকে  বিকেলে সেই পণ্যের দাম কম বা বেশি হয়। অর্থাৎ ঘন্টায় ঘন্টায় দামের পরিবর্তন হয়। আমরা যদি এটা দিয়েই মন্তব্য করে ফেলি দরদাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেল তখন কিন্তু এটি সাধারণভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর এর মেশিন বসানো হয়নি এটা দিয়ে কিন্তু আসলে একটি বাজেটের বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল্যায়ন হয় না। আমাদের দেখতে হবে বার্ষিক কর্মসম্পাদন ভিত্তিক মূল্যায়ন। দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারিনা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে ? অর্থাৎ ফলাফল কি পেলাম তারপর মন্তব্য করা যেতে পারে। আমরা এক বছরে কতটুকু শিক্ষার হার, প্রত্যাশিত গড় আয়ু বা প্রবৃদ্ধি অর্জনে এগিয়ে গেলাম, রেল সংযোগ বা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে পারলাম সেসব বিষয় কে বিবেচনায় আনতে হবে। এক বছরে দু’একবার বিদ্যুৎ যেতেও পারে আবার নাও পারে এটি দিয়ে আমরা বলতে পারিনা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে , আপনারা কেমন পরিকল্পনা করলেন। বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা দিয়ে আসলে সামগ্রিক বিষয়  তুলনা করা মনে হয় না ঠিক হবে। আমাদেরকে দেখতে হবে ফলাফল। ধরুন এক বছরে মোট বাজেটের প্রায় ৯২% অর্জিত হয়েছে বা কম হয়েছে। তখন একটা মন্তব্য করা যেতে পারে। দু’ তিন দিন আমরা কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি সেটি মনে হয় না কোন সূচকের মধ্যে পড়ে । সূচক হচ্ছে সমষ্টিগত একটি বিষয়। সমষ্টিগত ভাবে আমাদের ফলাফলকে দেখতে হবে যে আমরা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি। সেই অর্থে আমরা পরিকল্পনায় অনেক অর্জন  করেছি। একসময় স্কুল ড্রপআউট অনেক ছিল এখন সেটি ১৮ শতাংশ নেমেছে যেটি একসময় ৪৩ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ আমরা ৮২ শতাংশ ওভারকাম করতে পেরেছি। স্কুল এনরোলমেন্ট ১০০ হল যেটা একসময় ৮৩ ছিল। এটাই আমাদের কে দেখতে হবে বা বিশ্লেষণ করতে হবে। অনেক সময় অনেকে বলেন যে আপনাদের তথ্য ঠিক নাই আপনাদের তথ্য অনেক বেশি দেওয়া আছে বা ভুল আছে এটা আপনারা বলতে পারেন । বিদেশীরা তো সরকারের  কোন অঙ্গ সংগঠন নয় বা প্রচার সংগঠন নয় তবে কৌশিক বস বা অমর্ত্য সেন যে কথাটা বলেন তবে আমরা সেটি কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারি। নিউ ইর্ক টাইমস কি বলেন, দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকা  কি বলেন ,আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সমুহ কি বলেন সেগুলো আমরা দেখতে পারি। ভারতীয় পত্রিকায় বলা হলো যে, বাংলাদেশ ভারতকে মাথাপিছু আয়ে পিছনে ফেলছে। আমি বলি শুধু মাথাপিছু আয় নয় সামাজিক অনেক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে। মাতৃ মৃত্যুহার,  শিক্ষার হার, আমাদের প্রত্যাশিত গড় আয়ুতে আমরা ভারত পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।  দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমরা এসব ক্ষেত্রে এখন এক নম্বরে আছি। মাথাপিছু আয়, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে কিনা, রেমিটেন্স বাড়ছে কিনা, কৃষি উৎপাদন বাড়ছে কিনা, এসব ফলাফলের হার যদি আমরা বিবেচনা করি তাহলে বোধহয় আমরা বলতে পারি আমরা সঠিকভাবে এগিয়ে  যাচ্ছি বা আমাদের পরিবর্তনের পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। দৈনন্দিন সকাল-বিকেল এর ঘটনা দেখে , সকালে রোদ, বিকেলে বৃষ্টি এইসব দেখেই যদি বলি বৃষ্টিময় দিন বা ঘোলাটে দিন তাহলে মনে হয় আমাদের মিস লিডিং হয়ে যেতে পারে।আন্তর্জাতিকভাবে যদি আমরা দেখি জেন্ডার সমতা , নারী ক্ষমতায়নে গত এক যুগে বাংলাদেশে অনেক এগিয়েছে সুতরাং আমি এটিকে বলতে পারি বাংলাদেশের জন্য একটি সোনালী যুগ।
আমরা করোনার এই সময়টা কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারি এ ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে কি? এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম বলেন, করোনার এই মহামারী থেকে আমাদের সকলের বাঁচার প্রচেষ্টা চলছে এবং আমরা সবাই জীবন প্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটি করোনার দ্বিতীয় বর্ষ চলছে ২০২০ -২১ অর্থবছর। ২০২০ সালের মার্চ মাসে এটি প্রথম দেখা যায় বাংলাদেশে। এটি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কিছু দিনের জন্য সারাদেশকে শাটডাউন করতে হলো। সেই সময় স্বাভাবিকভাবে অনেকেই আতঙ্কিত হয়েছি। অনেকেই দ্বিধান্বিত হয়েছি আমাদের হয়তো বড় একটা বিপর্যয়ের মোকাবেলা করতে হবে। অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে সেরকম একটা সময়ে প্রতিষ্ঠিত think-tank ইকোনমিক ফোরাম থেকে বলা হলো অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ব্যতিরেকে দ্রুত কোভিড-১৯  মোকাবেলা কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক। কতটা হয়তো তারা বলেছেন তাদের বিবেচনায় বা কোভিড কে খুব বেশি প্রাধান্য দেয়ার জন্য।  প্রাধান্য দেয়ার বিষয়ে সরকার প্রাধান্য দিয়েছে এবং আপনারা জেনে থাকবেন যে সরকার খুব দ্রুততম সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জুনের আগেই সেই প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় আমাদের চার শতাংশ জিডিপি ব্যয় করে প্রণোদনা  প্যাকেজ গুলো দেওয়া হল বিশেষ করে রপ্তানি শিল্প ও শ্রমিকদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরকম  বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। সুতরাং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার পিছিয়ে থাকেনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা স্থগিতের বিষয়ে তখনও আমি পত্রপত্রিকায় লিখেছি। কারণ আমাদের সংবিধানের প্রতি যদি আনুগত্য থাকে তাহলে আমরা পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে পারিনা। বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৫ নং ধারার ‘গ’ উপধারায় পরিকল্পনার কথা (planned path of growth) সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে উল্লিখিত আছে, ‘রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে’ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও মৌলিক চাহিদার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) নিশ্চিতকরণ। এই পাঁচটি বিষয়ে সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে সুতরাং সরকারের প্লান্ট পথ অব গ্রোথ বন্ধ রাখা চলে না। যেহেতু আমাদের ভিশন / রূপকল্প পরিকল্পনা চলছে সুতরাং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাদ দিলে সেখানে আমাদের একটি হোঁচট খেতে হয়। কারণ সেখানে পাঁচ বছরের অভীষ্ট লক্ষ্য, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ইত্যাদি উল্লেখ করা থাকে। এগুলো যদি আমরা প্রাক্কলন না করে স্থগিত করে শুধুমাত্র কোভিড -১৯ নিয়ে পড়ে থাকি তাহলে আমাদের পিছিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু সরকার জীবন ও জীবিকার দুটোকেই চমৎকারভাবে সমন্বয় করে এগিয়ে নিয়েছেন। একদিকে আপনাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা অন্যদিকে অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখার প্রচেষ্টা। তখন আমরা একটি শব্দ ইউজ করছিলাম যেটা অনেকেই শুনে থাকবেন সেটি হচ্ছে মানবিক লকডাউন। অর্থাৎ বাজার , কৃষি ব্যবস্থাপনাকে চালু রাখা, শ্রমিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরকারি ভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা। এই যে একটা মানবিক ব্যবস্থাপনা সেটি সরকার করেছে যাতে করে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয় এবং দেশ না খাদ্য সংকটে পড়ে। ওই সভায় একজন বলেছিল ছবিতে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে আমরা যদি সেসবকে বিবেচনায় নিয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা স্থগিত করতাম তাহলে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়তো। বর্তমানে যেমন করোনাভাইরাস প্রতিমার এসেছে অতীতে এরকম অনেক মহামারী এসেছে , ভবিষ্যতেও এ রকম মহামারী আসবে তাই বলে আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। এ কারণেই আমরা প্রথম দুই বছর রিভাইস করেছি কিভাবে এই কোভিডের মধ্যেও পরিকল্পিতভাবে দেশকে পরিচালনা করা যায়। যদি শুধুমাত্র কোভিড কোভিড করেই আমাদের পরিকল্পনা বাতিল করা হতো তাহলে আমাদের সেটি ভ্রান্তিকর পদক্ষেপ হতো বলে আমি মনে করি। যখন ১৩০ টি দেশ কোভিড পায়নি তখনও আমাদের দেশে কোভিডের ভ্যাকসিন চলে আসছে যদিও মাঝখানে ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা বিপর্যয় হয়েছিল। এই যে সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে বলেই আমরা আজকে এই অবস্থানে আসতে আসতে পেরেছি, আমরা এত কিছু অর্জন করতে পেরেছি।
আপনি যেসব সূচকের কথা বলেছেন সেটি এক বছরের বা এক দশকে হয়নি এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সুতরাং এটিকে শুধুমাত্র একটি সরকারের সাফল্য বলা কতটা যৌক্তিক বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ড.শামসুল আলম বলেন,  আমি যখন কথা বলেছি তখন শুধুমাত্র একটি সরকারের পরিকল্পনার কথা বলিনি অতীতের পরিকল্পনার কথাও আমি বলেছি এবং এটিকে একটি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বলা যায়। কিন্তু আপনি একটি জিনিস দেখে থাকবেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কিছুটা বেশ রুতে  ঘটেছিল এবং আশির দশকের আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ। বর্তমানে সেটি ৮.১ শতাংশ। সুতরাং এটা নিয়ে যদি আমি তৃপ্তির ঢেকুর ফেলি বা সেটা নিয়ে গর্ব করি তাহলে সেটা দোষের কিছু নয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিক থেকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮৪ শতাংশ। ৯০-৯১ তে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৪৩৫ এর মত বর্তমানে সেটি ১৫৩ তে চলে এসেছে এটি কি গর্বের বিষয় নয়।  এমডিজির ২১ টি অভীষ্ট লক্ষ্যের  মধ্যে আমরা ২০টি তে পূর্ণতা অর্জন করি। যেখানে পূর্বে এমডিজির ১৮ টি লক্ষ্যমাত্রা ছিল বর্তমানে সেটি পরিবর্তন হয় ২১ টি তে রূপান্তরিত হয়েছে।  এইযে এমডিজি অর্জনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১১ টি পুরস্কার পেলেন সেটি কি আমাদের জন্য গৌরবের নয়। এটি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ছিল কিন্তু গত ১০ বছরে প্রবৃদ্ধির হার আড়াই গুণ বেড়ে যাওয়া আর ২৪ বছরে দ্বিগুণ হওয়া কি একই কথা হলো।  গত এক যুগে আমরা এগিয়েছি পরিকল্পিত ভাবে বিস্তৃতি লাভ করার জন্য। এখন এমন একটি গ্রাম খুঁজে পাবেন না যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি , রাস্তাঘাট পাকা হয়নি, কিংবা গ্রামের কোন মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। এমন কোথাও কিন্তু আর খুজে পাবেন না।  সুতরাং প্রশংসা পাওয়া বাঞ্ছনীয় এবং প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য দাবিদার।একুশ শতকে সোনার বাংলা রূপায়ণে কিকি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা দরকার এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আসলে চ্যালেঞ্জের বাহিরে নয় আমাদের প্রতিটি মানুষ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছি। কারণ আমাদের যত অপরচুনিটি বেড়ে যায় তত চ্যালেঞ্জও আমাদের সামনে চলে আসে আমার কাছে এটাই মনে হয়। আমরা এখনো কাঙ্খিত  দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে পারেনি। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের আরও এগুনো দরকার ছিল কিন্তু আমরা পারিনি তবে করোনার প্রথম দিকে আমাদের মাত্র তিনটি পিসিআর ল্যাব ছিল এখন প্রায় ৮০০ পিসিআর ল্যাব কাজ করছে। আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনশক্তি রপ্তানিতে কাজ করছি এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করছি।
দারিদ্র বিমোচন ও অর্থনৈতিক চাঙ্গা এর মধ্যে প্রকৃত পক্ষে কোন পার্থক্য আছে কি’না এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক ড.সেলিম জাহান বলেন, আমরা যদি বিশ্লেষণ করে বলি তাহলে দারিদ্র বিমোচন এবং অর্থনৈতিক চাঙা বা উন্নয়নের অন্তর্নিহিত কোন পার্থক্য নেই। তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সাথে একমত পোষণ করে বলেন, পরিকল্পনা কোন অবস্থাগত বা কৌশলগত বিষয় কিংবা উপকরণ নয় পরিকল্পনা একটি প্রায়োগিক ব্যাপার। পরিকল্পনা গুলো সাধারণত সল্প,মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। কাজেই এর কিছু ভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা থাকে এবং সে হিসেবেই আমাদের কাজ করতে হয়। এই করোনা অতিমারীর সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে বাঁচাতে হবে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে মানুষকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হয়েছে, নানান ভাবে মানুষকে অর্থ দেয়া হয়েছে।  মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বিনিয়োগের যে কথাটি বললেন সেটি যদি অপ্রাতিষ্ঠানিক হয় অর্থ্যাৎ সেবামূলক, কৃষিখাত বা যেখানে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় সেখানে বিনিয়োগ হলে একদিকে যেমন দরিদ্র বিমোচন হচ্ছে  অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাঙ্গা হচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগ যদি শুধুমাত্র নগর কেন্দ্রিক কিংবা ধন/বিত্ত কেন্দ্রিক হয় তাহলে অর্থনৈতিক চাঙ্গা হবে তবে দরিদ্র বিমোচনের যে লক্ষ্য সেটি অর্জিত হবে না। কাজেই আপনি কোথায় বিনিয়োগ করছেন, কিভাবে বিনিয়োগ করছেন এটার ওপরে অধিকাংশ নির্ভর করছে দরিদ্র বিমোচন ও অর্থনৈতিক চাঙ্গার বিষয়টি। আমি মনে করি যে, বাংলাদেশ এর পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানব উন্নয়ন ও জেন্ডার সমতায় যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে একটা সমতা একটা ভারসাম্য নিহিত রয়েছে এবং তা সব সময়ই বহণ করা হয়েছে।  তবে আমি মনে করি, অর্থনৈতিক চাঙ্গার নাম করে মানুষের যে চাহিদা, মানুষের যে অধিকার তা থেকে বঞ্চিত করা মোটেও ঠিক হবে না।
আরও পড়ুনঃ  গুণীজনদের সাথে সেমিনারে অংশগ্রহণ

সর্বশেষ - জাতীয়