ঢাকামঙ্গলবার , ৮ জুন ২০২১
  1. আনন্দধারা
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প ও কবিতা
  9. গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব লিংক
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাকুরী বার্তা
  12. জনমত
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. পরিবেশ ও বিজ্ঞান

ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ব্রিজ নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম হবে রংপুর বিভাগের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু

ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম জেলাকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। আবার ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ব্রিজ নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম হবে রংপুর বিভাগের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু

নদটির বিশাল সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে ঘটবে যুগান্তকারি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। ব্রহ্মপুত্র নদের বিশাল জলরাশিকে কাজে লাগানোসহ ভাঙ্গনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া গেলে সমস্যা পরিণত হবে সমাধানে যা বিকশিত হবে সম্পদে।ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম থেকৈ যেমন সহজেই ঢাকা সহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সহজে যাতায়ত করা যাবে তেমনি রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলা,সমগ্র রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে এক সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পক্ষান্তরে ভারতের কতগুলো অঙ্গরাজ্য যেমন- পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি জেলা সহ আসাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের উল্লেখিত বিভাগের জেলাগুলোর সহজ যোগাযোগ প্রতিষ্টিত হবে এবং ভারতও প্রয়োজনে তাঁর অঙ্গরাজ্যগুলোর সাথে সহজ যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। এমনকি এর মাধ্যমে নেপাল ও ভুটানের সাথে কানেকটিভিটি বাড়ানো সম্ভব হবে।এ সেতুকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম তথা রংপুর বিভাগে সংঘটিত হবে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকা্ন্ড যার কযেকটি নমুনা তুলে ধরা হলো-

(১) গ্যাস সংযোগ: গ্যাস সংযোগ না থাকায় কুড়িগ্রামে অনেক শিল্পকারখানা, বিশেষ করে কৃষিজ পণ্য সংরক্ষণাগার, গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল তৈরির কারখানা এবং ইপিজেডভিত্তিক কলকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলে সেটি সম্ভব হয় নি।দেশের উত্তরাঞ্চলে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ দিতে ‘বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর’ সঞ্চালন পাইপলাইনের কাজ নির্ধানিত সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ যে সমাপ্ত হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম বা লালমনিরহাটে গ্যাস সংযোগ পাওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার বলে অনেকে মনে করেন। অথচ ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ব্রিজ নির্মিত হলে অতিসহজেই গ্যাসের পাইপ লাইন কুড়িগ্রাম দিয়ে রংপুর বিভাগের অন্যান্য জায়গায় সম্প্রসারণ করা সম্ভব। কারণ কুড়িগ্রামের পার্শ্ববর্তী জেলা জামালপুর পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ চলে এসেছে। গ্যাস সংযোগ এলে শুধু দেশে নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভুটান, নেপাল, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানিযোগ্য কারখানা এখানে গড়ে তোলা যাবে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রীন ভয়েসের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন যারা

(২)উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপোতে জ্বালানি তেল রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগানে পরিবহন করা হয়। আমদানিকৃত, ইস্টার্ন লিমিটেড এবং স্থানীয় অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত জ্বালানি তেল চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনায় মজুদ করা হয়। সেখান থেকে পানি পথে দৌলতপুর ডিপো ও খুলনা পাঠানো হয়। সেখান থেকে ট্যাঙ্ক ওয়াগানের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেল হেড ডিপোতে পাঠানো হয়। এতে সময় লাগে কমপক্ষে ৭ দিন। তাছাড়া এ ভাবে তেল পরিবহন করা ব্যয়বহুল এবং ঝুকিপূর্ণ। ফলে সরকার ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভারতের নুমালীগড় হতে শিলিগুঁড়ি রেল টার্মিনাল পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার পাইপ লাইন রয়েছে। এখন শিলিগুঁড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল হতে পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মান করা হবে। এর মধ্যে ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশে ১২৫ কিলোমিটার। ১০ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপ দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। ডিজাইন অনুযায়ী আইবিএফপিএলের মাধ্যমে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুর ডিপোতে গ্রহণ সম্ভব হবে। বর্তমানে পার্বতীপুর ডিপোর চাহিদা দৈনিক প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন। রংপুর বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উত্তরবঙ্গের রংপুর ও চিলমারী ডিপোর ৫০০ মেট্রিক টন দৈনিক চাহিদা। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নির্মিত হলে পরবর্তীতে পাইপের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের চিলমারি দিয়ে এ তেল বৃহত্তর ময়মনসিং পর্যন্ত সরবরাহ করতে পারবে। এমনকি ভারত সরকার তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে আসাম,ত্রিপুরা,মেঘালয় প্রভৃতি রাজ্যেও এ পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও নতুন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

(৩) বাংলাদেশের স্থলবন্দরসমূহ ভারত, নেপাল, ভূটান ও মায়ানমারের স্থল কিংবা নদী দ্বারা সৃষ্ট সীমান্তে অবস্থিত। মোট স্থল বন্দরের সংখ্যা ২৪ টি। বিবিআইএন এমভিএ বা বাংলাদেশ,ভূটান,ইন্ডিয়া, নেপাল মটর ভেহিকল এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয় ১৫ জুন, ২০১৫। এ চুক্তি অনুযায়ী উল্লেখিত চারটি দেশের যানবাহন চলাচল,মালামাল পরিবহন ও জনসাধারণ প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়ত করতে পারবে। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নির্মিত হলে মোট ২৪ টি স্থল বন্দরের মধ্যে ১৬ টি স্থল বন্দর সরাসরি উল্লেখিত চারটি দেশে সহজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারি বিপ্লব ঘটাবে। যার সহজ মাধ্যমে হবে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত সেতু। যেমন-

আরও পড়ুনঃ  শেকৃবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে GST ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

১. বিরল স্থল বন্দর, দিনাজপুর,(ভারতীয় অংশের নামঃ রাধিকাপুর, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর দিনাজপুর)

২. হিলি স্থল বন্দর হাকিমপুর,দিনাজপুর (ভারতীয় অংশের নামঃ হিলি দক্ষিন দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ)৩. বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর, তেতুলিয়া,পঞ্চগড়(ভারতীয় অংশের নামঃ ফুলবাড়ি, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ) ৪.চিলাহাটি স্থল বন্দর,ডোমার নিলফামারী(ভারতীয় অংশের নামঃ হলদিবাড়ি, কুচবিহার, বাংলাদেশ) ৫. বুড়িমারি স্থল বন্দর,পাটগ্রাম, লালমনিরহাট (ভারতীয় অংশের নামঃ চ্যাংড়াবান্ধা, মেখলিগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ।)

৬. সোনাহাট স্থল বন্দর, ভুরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম (ভারতীয় অংশের নামঃ ধুবরি, আসাম)

৭.নকুগাঁও স্থল বন্দর ,নালিতাবাড়ি শেরপুর(ভারতীয় অংশের নামঃ ডালু, বারাঙ্গাপাড়া, মেঘালয়)

৮.গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থল বন্দর, হালুয়াঘাট ময়মনসিংহ(ভারতীয় অংশের নামঃ গাছুয়াপাড়া, মেঘালয়

৯.ধনুয়া কালামপুর স্থল বন্দর , বকশিগঞ্জ ,জামালপুর (ভারতীয় অংশের নামঃ মাহেন্দ্রগঞ্জ, আমপতি, মেঘালয়

১০.আখাউড়া স্থল বন্দর,আখাউড়া ,ব্রাহ্মণবাড়িয়(ভারতীয় অংশের নামঃ রামনগর আগরতলা)

১১.বিবিরবাজার স্থল বন্দর,সদর উপজেলে, কুমিল্লা,ভারতীয় অংশের নামঃ শ্রীমান্তপুর, আগরতলা, ত্রিপুরা

১২. ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর ,ভোলাহঞ্জ,কোম্পানীগঞ্জ সিলেট

১৩.বাল্লা স্থল বন্দর,কেদারাকোট, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ (ভারতীয় অংশের নামঃ পাহাড়মুড়া, ত্রিপুরা)

১৪.তামাবিল স্থল বন্দর, গোয়াইনঘাট, সিলেট (ভারতীয় অংশের নামঃ ডাউকি, পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়, মেঘালয়)

১৫. বিলোনিয়া স্থল বন্দর, বিলোনিয়া পরশুরাম ফেনী (ভারতীয় অংশের নামঃ বিলোনিয়া, ত্রিপুরা) ১৬. শেওলা স্থল বন্দর,বিয়ানীবাজার, সিলেট, সুতারকান্দি, করিমগঞ্জ, আসাম। এ সেতুর মাধ্যমে এ সকল স্থল বন্দরের আন্ত:দেশীয় ও আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়বে এবং পিছিয়ে থাকা কুড়িগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা,বাণিজ্য এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্প্রসারণশীল আবহের সৃষ্টি হবে।

লিখা: মীর্জা নাসির উদ্দিন, ভাইস- প্রিন্সিপ্যাল

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।

সর্বশেষ - জাতীয়

নির্বাচিত সংবাদ

কোভিড প্রটোকল সাধারণ মানুষের জন্য

অভিযোগ প্রতিকার

হাবিপ্রবিতে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনায় স্টেকহোল্ডারগণের সভা

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হাবিপ্রবিতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব কুড়িগ্রামের জিয়াউল হাসান

জার্মান আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি মিজান, সাধারণ সম্পাদক বকুল

দুর্গা পূজায় টানা চার দিন বেনাপোলে আমদানি- রপ্তানি বানিজ্য বন্ধ

টেক্সটাইল মিলস চত্বরে হচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস

হাবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনবে সৌদি-ভারত-নেপাল-ভুটান

অনলাইন কেনাকাটা আর অনলাইন শিক্ষা এক নয়: অধ্যাপক আলমগীর